• ২৬ এপ্রিল, ২০২৬

ঢাকা-৮ আসনে ডিমের আঘাত, উত্তপ্ত নির্বাচনী মাঠ

ঢাকা-৮ আসনে ডিমের আঘাত, উত্তপ্ত নির্বাচনী মাঠ

ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচনী প্রচারণার সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা রাজনৈতিক মাঠকে উত্তপ্ত করেছে। নির্বাচন নাকি আধিপত্যের লড়াই-ঘটনার নেপথ্যের গভীর বিশ্লেষণ।

ঢাকা : ঢাকা-৮ আসনের নির্বাচন এবার শুধু পোস্টার, মাইক আর স্লোগানে সীমাবদ্ধ নেই। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা গড়িয়েছে প্রকাশ্য অপমান, ডিম নিক্ষেপ এবং শারীরিক হামলার পর্যায়ে। মঙ্গলবার হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে নির্বাচনী প্রচারণার সময় ১০-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনা নির্বাচনী মাঠে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।
এই ঘটনার পরপরই রাজনীতির পারদ চড়তে শুরু করে। প্রশ্ন উঠছে-এটি কি নিছক একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নাকি ঢাকা-৮ আসনের ক্ষমতা ও আধিপত্য ধরে রাখার দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের বহিঃপ্রকাশ?
অভিযোগের তীর কার দিকে :
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এই হামলার জন্য সরাসরি বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে দায়ী করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি কোনো আকস্মিক প্রতিক্রিয়া নয়; বরং পরিকল্পিত হামলা। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। নাহিদ ইসলামের দাবি, তারেক রহমানের সম্মতিতেই ছাত্রদলের ক্যাডারদের ব্যবহার করে এ হামলা চালানো হয়েছে।
তার বক্তব্যে উঠে আসে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। 
প্রথমত, তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি প্রকাশ্যে গণতন্ত্রের কথা বললেও বাস্তবে বিরোধী কণ্ঠ দমনে ‘আওয়ামী লীগের ছায়া রাজনীতি’ অনুসরণ করছে।
দ্বিতীয়ত, মির্জা আব্বাসের দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার বলয়কে তিনি ‘সাম্রাজ্যবাদী রাজনীতির প্রতীক’ হিসেবে আখ্যা দেন।
তৃতীয়ত, নির্বাচনকে মতের লড়াই হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়ে পেশিশক্তির ব্যবহারকে গণতন্ত্রের জন্য হুমকি বলে উল্লেখ করেন।

ডিম নিক্ষেপের রাজনীতি কেন?
বিশ্লেষকদের মতে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার পেছনে একাধিক রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক কারণ কাজ করছে। 
ঢাকা-৮ আসনের হাই ভোল্টেজ বাস্তবতা: রমনা-মতিঝিল নিয়ে গঠিত ঢাকা-৮ আসন রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই আসনে দীর্ঘদিন ধরে মির্জা আব্বাসের শক্ত অবস্থান রয়েছে। তার বিপরীতে তরুণ, সক্রিয় এবং মাঠে দৃশ্যমান একজন প্রার্থী হিসেবে পাটওয়ারীর উপস্থিতি বিএনপি শিবিরে অস্বস্তি তৈরি করতেই পারে। এই আসনে আধিপত্যে ফাটল ধরার আশঙ্কা থেকেই আগ্রাসী প্রতিক্রিয়া আসতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
 

জোট রাজনীতির ভেতরের ফাটল : একসময় বিএনপি ও জামায়াতের সম্পর্ক ছিল ঘনিষ্ঠ। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই সম্পর্কের রসায়ন বদলেছে। নাহিদ ইসলামের বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে-বিএনপি জামায়াতের অতীত তুলে ধরলেও নিজেদের ২০০১-২০০৬ সময়কার বিতর্কিত অধ্যায় এড়িয়ে যাচ্ছে। এই ঘটনাকে সেই জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।


মাঠ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দখলের পুরনো লড়াই : ঢাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রদল ও শিবির সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর আধিপত্যের দ্বন্দ্ব নতুন নয়। নাহিদ ইসলামের অভিযোগ অনুযায়ী, ছাত্রদলের চিহ্নিত ক্যাডাররা এই হামলায় যুক্ত। অনেকের মতে, এটি নির্বাচনের চেয়ে বেশি ‘মাঠ দখল’ এবং সাংগঠনিক প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা।
 

উস্কানি ও পাল্টা প্রতিক্রিয়ার কৌশল : ডিম নিক্ষেপ রাজনীতিতে কেবল অপমানের প্রতীক নয়; এটি প্রতিপক্ষকে মানসিকভাবে দুর্বল করার কৌশল। নাহিদ ইসলাম ১২ ফেব্রুয়ারী ‘জবাব দেওয়ার দিন’ ঘোষণা করে পরিস্থিতিকে আরও মেরুকরণের দিকে ঠেলে দিয়েছেন। এতে নির্বাচনী পরিবেশ সংঘাতের দিকে এগোতে পারে বলে আশঙ্কা বাড়ছে।
 

ভবিষ্যৎ রাজনীতি কোন পথে : এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। রাজপথে পাল্টা কর্মসূচির হুমকি নির্বাচনী উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ নিছক একটি অপদস্ত করার ঘটনা নয়। এটি ঢাকার একটি হাই-ভোল্টেজ আসনে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আধিপত্য, জোট রাজনীতির টানাপোড়েন এবং মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াইয়ের প্রতিচ্ছবি। এই সংঘাত শেষ পর্যন্ত নির্বাচনকে গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতার পথে রাখবে, নাকি পেশিশক্তির পুরনো রাজনীতিকে আবারও সামনে নিয়ে আসবে-সেই প্রশ্নের উত্তর এখন সময়ের হাতে।
 

শ-হা-২৭-১-২০২৬ ইং। 
 

ঢাকা বাংলা রিপোর্ট

How puzzling all these changes are! I'm never sure what I'm going to turn into a tidy little room.